১৯৪৯ সালের তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন এবং যুদ্ধ বন্দীদের সংরক্ষণ
যখন কোন বিশেষ এলাকা বা ভূ-খন্ড কোন বিরোধী পক্ষের দখলে থাকে, তখন যে সকল যোদ্ধারা বা সৈনিকেরা শত্রু পক্ষের বন্দী থাকেন তাদেরকে বলা হয় যুদ্ধবন্দী বা “Prisoners of war”- যুদ্ধবন্দীর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে Frits Kalshoven তাঁর “Constraints on the Waging of War” নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, “Combatants who fall in to enemy hands are prisoners of war from the very moment of capture.” তৃতীয় জেনেভা কভেনশনের ১২ অনুচ্ছেদে যুদ্ধবন্দী সম্পর্কে নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে৷
১৯৪৯ সালের তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন এবং যুদ্ধ বন্দীদের সংরক্ষণ
১৯৪৯ সালের তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন এবং যুদ্ধ বন্দীদের সংরক্ষণ
(THE THIRD GENEVA CONVENTION OF 1949 AND PROTECTION OF THE PRISONERS OF WAR)
যখন কোন বিশেষ এলাকা বা ভূ-খন্ড কোন বিরোধী পক্ষের দখলে থাকে, তখন যে সকল যোদ্ধারা বা সৈনিকেরা শত্রু পক্ষের বন্দী থাকেন তাদেরকে বলা হয় যুদ্ধবন্দী বা “Prisoners of war”- যুদ্ধবন্দীর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে Frits Kalshoven তাঁর “Constraints on the Waging of War” নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, “Combatants who fall in to enemy hands are prisoners of war from the very moment of capture.” তৃতীয় জেনেভা কভেনশনের ১২ অনুচ্ছেদে যুদ্ধবন্দী সম্পর্কে নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে৷ অত্র অনুচ্ছেদ মোতাবেক “যুদ্ধবন্দী হলো সেই সকল ব্যক্তি যারা বিরোধী শত্রু পক্ষের হাতে বন্দী থাকেন, কিন্তু কোন অবস্থাতেই একক বা মিলিটারী ইউনিটের আওতায় আটককৃত যোদ্ধাদের যুদ্ধবন্দী বলা যাবে না৷”
১৯৪৯ সালের তৃতীয় জেনেভা কনভেনশনে যুদ্ধবন্দীদের সেবা-শুশ্রুষা এবং রক্ষণাবেক্ষণ সম্পর্কিত বিধানবলী বর্ণিত আছে৷ অত্র কনভেনশন ঘোষনা দিয়েছে যে, “যুদ্ধবন্দীরা সকল সময়ে মানবিক সেরা পাওয়ার অধিকারী৷” তৃতীয় জেনেভা কনভেনশনের ১৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, যুদ্ধবন্দীদের কোন অবস্থাতেই স্বেচ্ছাচারীভাবে হত্যা করা যাবে না৷ যুদ্ধবন্দীরা দুষ্কর্ম, ভীতি প্রদর্শন এবং জন কৌতুহল এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকারী৷ ১৪ অনুচ্ছেদে অনুযায়ী যুদ্ধবন্দীদের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক যে কোন কার্য সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ, তারা তাদের ব্যক্তিত্ব ও মর্যাদা অনুযায়ী যথাযথ সম্মান, যে কোন পরিস্থিতিতেই লাভের অধিকারী৷ তাদের সাথে এমন কোন আচরণ করা যাবে না যাহা মানবতার পরিপন্থী৷
তৃতীয় জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী আটককারী কর্ত্তৃপক্ষের কাছে যুদ্ধবন্দীরা সংবাদ প্রাপ্তির একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসাবে বিবেচিত৷ তবে তাদের বিরুদ্ধে শারীরিক, মানসিক বা অন্যকোন প্রকার দমনমূলক বা প্রতিহিংসা পরায়ন কাজ করা যাবে না৷ প্রত্যেক যুদ্ধবন্দীই তার প্রাথমিক নাম বিকল্প নাম পদমর্যাদা, জণ্মতারিখ, আর্মি-রেজিমেন্টাল, ব্যক্তিগত অথবা সিরিয়াল নম্বর এবং এতদসংশ্লিষ্ট সকল প্রকার সংবাদ করবে (অনুচ্ছেদ-১৭)৷
যুদ্ধবন্দীরা যে যুদ্ধ এলাকায় আটক হয়ে থাকেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাদেরকে সেই এলাকা ত্যাগ করার সুযোগ দিতে হবে এবং এইরূপ আটক যুদ্ধবন্দীদের ক্যাম্পকে বিপদমুক্ত এলাকায় সরিয়ে নিতে হবে৷ যুদ্ধবন্দীরা প্যারোল বা প্রতিজ্ঞা অনুযায়ী অন্য কোন সুবিধা পেতে পারে৷ আটককারী কর্তৃপক্ষকে যুদ্ধবন্দীদের সমস্ত খরচা বহন করতে হবে (অনুচ্ছেদ ১৫.১ঌ এবং ২১)৷
তৃতীয় জেনেভা কনভেনশনের ৩৯ অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, যুদ্ধ বন্দীদের ক্যাম্পকে অতিসত্বর একটি দায়িত্বশীল কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার এর অধীনে অর্পণ করতে হবে৷ এই কনভেনশনে যুদ্ধবন্দীদের রক্ষণাবেক্ষনের ব্যাপারে যে সকল নীতিমালা বর্ণিত হয়েছে তাহা যুদ্ধবন্দীদের নিজস্ব ভাষায় উপস্থাপন করতে হবে, যাতে তারা উক্ত ব্যাপারে যথাযথভাবে অবগত হতে পারে [অনুচ্ছেদ ৪১]৷
যুদ্ধবন্দীরা আটক থাকাকালীন তাদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধাচারণমূলক সকল আচরণ বন্ধ রাখতে হবে এবং বিলম্ব না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মুক্তিদান এবং স্ব-দেশে পুনঃ প্রেরণ করতে হবে (অনুচ্ছেদ-১১৮)৷
কতকগুলি কারণের ভিত্তিতে যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি প্রদান করা হবে৷ প্রথমতঃ কোন যুদ্ধবন্দী মৃত্যুবরণ করলে তাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভভ স্বদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে; এরূপ ব্যবস্থা আটককারী কত্তৃপক্ষকেই করতে হবে (অনুচ্ছেদ-১২০)৷
তাছাড়া যে সকল যোদ্ধারা গুরুতরভাবে আহত বা অসুস্থ তাদেরকে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করতে হবে কিংবা কোন নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে তাদের পাঠাতে হবে যাতে খুব তাড়াতাড়ি তারা ভ্রমনের জন্য যোগ্য হয়ে উঠতে পারে (অনুচ্ছেদ-১০৯)৷আবার যে সকল যুদ্ধবন্দীরা অপেক্ষাকৃত কম অসুস্থ কিন্তু যাদের মুক্তি দিলে তারা তাদের দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবে আটককারী কর্ত্তৃপক্ষ তাদেরকে নিজ দেশে প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা করে দিবে৷