Don't Miss
Home / Int. Law & Charter / Equality / বৈষম্য (চাকরি ও পেশা) সুপারিশ, ১৯৫১

বৈষম্য (চাকরি ও পেশা) সুপারিশ, ১৯৫১

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সাধারণ অধিবেশন, আন্তর্জাতিক শ্রম অফিসের গভর্নিং বডি কর্তৃক জেনেভাতে আহুত, এবং ১৯৫৮ সালের ৪ঠা জুন অনুষ্ঠিত এর ৪২তম অধিবেশনে মিলিত হয়ে, এবং এই বৈঠকের ৪র্থ আলোচ্যসূচী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ও পেশার ক্ষেত্রে বৈষম্য সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে, এবং এই প্রস্তাবগুলোকে একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনে রূপদান করার সিদ্ধান্তক্রমে এবং

বৈষম্য (চাকরি ও পেশা) সুপারিশ, ১৯৫১

 প্রস্তাবনা

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার সাধারণ অধিবেশন,

আন্তর্জাতিক শ্রম অফিসের গভর্নিং বডি কর্তৃক জেনেভাতে আহুত, এবং ১৯৫৮ সালের ৪ঠা জুন অনুষ্ঠিত এর ৪২তম অধিবেশনে মিলিত হয়ে, এবং

এই বৈঠকের ৪র্থ আলোচ্যসূচী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ও পেশার ক্ষেত্রে বৈষম্য সম্পর্কিত কতিপয় প্রস্তাব গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে, এবং এই প্রস্তাবগুলোকে একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনে রূপদান করার সিদ্ধান্তক্রমে এবং

এই প্রস্তাবগুলোকে বৈষম্য (চাকরি ও পেশা) কনভেনশন, ১৯৫৮কে পরিপূরণের লক্ষ্যে একটি সুপারিমের রূপদান করার সিদ্ধান্তক্রমে,

অদ্য এক হাজার নয় শত আটান্ন সনের পঁচিশে জুন তারিখে বৈষম্য (চাকরি ও পেশা) সুপারিশ, ১ঌ৫৮ শীর্ষক নিম্নলিখিত সুপারিশটি গ্রহণ করে:

সম্মেলনে সুপারিশ করে যে প্রত্যেক সদস্য নিম্নলিখিত বিধানসমূহ প্রয়োগ করবে-

১. সংজ্ঞাসমূহ

১৷ (১) এ সুপারিশের উদ্দেশ্যে, ‘বৈষম্য’ বলতে বুঝাবে :

       (ক) জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, রাজনৈতিক মতামত, জাতিগতসূত্র বা সামাজিক উতসের প্রেক্ষিতে কোন পার্থক্য, বর্জন বা অগ্রাধিকার (যা চাকরি কিংবা পেশায় সমসুযোগ বা আচরণের সুযোগ রদ বা ক্ষতি করে);

       (খ) প্রতিনিধিত্বমূলক মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের (যেখানে বিদ্যমান) এবং অন্যান্য সংস্থার সাথে পরামর্শ করে সংশ্লিষ্ট সদস্য-রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত চাকরি বা পেশার ক্ষেত্রে এরূপ অন্যান্য পার্থক্য, বর্জন কিংবা অগ্রাধিকার (যা চাকরি কিংবা পেশায় সম-সুযোগ বা আচরনৈর সুযোগ রাদ বা ক্ষতি করে);

    (২) কোন বিশেষ কাজের অন্তর্নিহিত প্রয়োজনের কোন পার্থক্য, বর্জন বা অগ্রাধিকার বৈষম্যমূলক হিসেবে পরিগণিত হবে না৷

    (৩) এই কনভেনশনে ‘চাকরি’ ও ‘পেশা’ বলতে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ, চাকরি এবং বিশেষ পেশায় প্রবেশ করার সুবিধা ও চাকরির শর্তাবলী বুঝাবে৷

 ২. নীতি প্রণয়ন ও প্রয়োগ

২৷ প্রত্যেক সদস্য-রাষ্ট্র চাকরি ও পেশায় সম-সুযোগ ও আচরণের ক্ষেত্রে যেকোন বৈষম্য নিরসনে একটি জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করবে৷ এ নীতি আইন প্রণয়ন, মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিদের মধ্যে যৌথ চুক্তির মাধ্যমে এবং জাতীয় অবস্থা ও প্রথার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পদ্ধতিতে প্রয়োগ করতে হবে এবং এতে নিম্নোক্ত নীতিমালার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে:

(ক) চাকরি ও পেশার ক্ষেত্রে সুযোগের সমতা ও সম-আচরন এর উন্নয়ন সাধন একটি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়;

(খ) কোনরকম ভেদাভেদ ছাড়া সকল ব্যক্তি, নিম্নোক্ত ক্ষেত্রে সুযোগের সমতা সম আচরন ভোগ করবে:

(i) বৃত্তিমূলক নির্দেশনা এবং স্থানাপন্নকরণ সার্ভিস;

(ii) প্রশিক্ষণের বা চাকরির বিষয়ে ব্যক্তিগত উপযোগিতার ভিত্তিতে নিজেদের পছন্দমত চাকরির অধিকার;

(iii) তাদের নিজ নিজ চরিত্র, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা এবং পরিশ্রম অনুসারে পদোন্নতি;

(iv) চাকরির স্থায়িত্বের নিরাপত্তা;

(v) সমমূল্যের কাজের জন্য পারিশ্রমিক;

(vi) চাকরির সাথে সংশ্লিষ্ট কাজের ঘন্টা, বিশ্রামকাল, সবেতন বার্ষিক ছুটি, পেশাগত নিরাপত্তা ও পেশাগত স্বাস্থ্য বিষয়ক ব্যবস্থাসমূহ এবং সামাজিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থাদি ও কল্যাণমূল্যক সুযোগ ও সুবিধাসমহ কাজের শর্তাবলী;

(গ) সরকারী এজেন্সীসমূহকে তাদের সকল কর্মকান্ডে অবৈষম্যমূল্যক কর্মসংস্থান-নীতি প্রয়োগ করতে হবে৷

(ঘ) মালিকগণ কোন ব্যক্তি চাকরির জন্য প্রশিক্ষণ দেয়ার ক্ষেত্রে বা নিয়োগরে ক্ষেত্রে, বা অনুরূপ ব্যক্তিকে চাকরিতে রাখা বা পদোন্নতি দেয়অ অথবা চাকরির শর্তাবলী স্থির করার ক্ষেত্রে কোন রকম বৈষম্যমূলক আচরণ করবেন না বা উত্সাহিত করবেন না; অথবা কোন ব্যক্তি বা সংস্থা এ নীতি প্রয়োগে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোন মালিকের প্রতি বাধা সৃষ্টি করতে বা হস্তক্ষেপ করতে পারবেনা৷

(ঙ) যৌথ দরকষাকষিতে এবং শিল্প সম্পর্কের ক্ষেত্রে পক্ষগণ চাকরি ও পেশায় সম-সুযোগ ও আচণের নীতিকে শ্রদ্ধা করবে এবং এটা নিশ্চিত করতে হবে যে যৌথ চুক্তিতে প্রশিক্ষণ লাভে বা পদোন্নতিতে বা চাকরিতে রাখার ক্ষেত্রে বা চাকরির শর্তাবলীতে কোন বৈষম্যমূলক কোন বিধান থাকতে পারবেনা৷

(চ) মালিকদের সংগঠনসমূহ এবং শ্রমিকদের সংগঠনসমূহ সদস্যপদ গ্রহণে বা কর্মকান্ডে অংশগ্রহণের ব্যাপারে কোন কোন বৈষম্য করবেনা বা সমর্থণ করবেনা

 ৩. প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্র

(ক) নিম্নোক্ত বিষয়ে অবৈষ্যম্যমূলক নীতির প্রয়োগ নিশ্চিত করবে-

(i) জাতীয় কর্তৃপক্ষেল প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রাণাধীন চাকরির বিষয়ে;

(ii) জাতীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাধীন বৃত্তিমূলক নির্দেশনার কর্মকান্ডে, বৃত্তিমূল্যক প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণে এবং সার্ভিসে স্থানাপন্নকরণে:

(খ) অন্যান্য চাকরি ও অন্যান্য বৃত্তিমূলক নির্দেশনার কর্মকান্ডে, বৃত্তিমূল্যক প্রশিক্ষণে এবং সার্ভিসে স্থানাপন্নকরণে, যেক্ষেত্রে বাস্তাবসম্মত এবং প্রয়োজন, সেক্ষেত্রে নিম্নোক্ত পন্থায় তাদের পর্যবেক্ষণ উন্নীত করবে-

(i) রাজ্য, প্রাদেশিক বা স্থানীয় সরকারের বিভাগসমূহ বা এজেন্সীসমূহকে এবং সরকারী মালিকানাধীন ও নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ৷ঠানসমূহকে এ নীতি প্রয়োগে উত্সাহিত করে;

(ii) এ নীতি পালনের উপর নির্ভরশীল করে সরকার তহবিলের খরচ সম্বলিত চুক্তিতে আইনানুগ করে;

(iii) এ নীতি পালন করার উপর নির্ভরশীলভাবে প্রতিষ্ঠানসমূহকে প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য অনুদান এবং প্রাইভেট চাকরি এজেন্সী পরিচালনের জন্য লাইসেন্স দেয় বা প্রাইভেট বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ অফিস পরিচালনা আইনানুগ করে৷

৪৷ যেক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত সেক্ষেত্রে উপযুক্ত এজন্সীসমূহকে, যদি অনুরূফ সংগঠন থেকে থাকে, তবে মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনসমূহের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত উপদেষ্টা কমিটির মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করতে হবে, এবং সরকারী এবং বেসরকারী সর্বক্ষেত্রে এ নীতি প্রয়োগ করার জন্য অন্যান্য আগ্রহশীল সংস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, বিশেষতঃ

(ক) জনমত গঠন করা এবং অবৈষম্যমূলক নীতি গ্রহণ করার জন্য সকল প্রকার বাস্তবসম্মত পন্থা গ্রহণ করতে হবে৷

(খ) এ নীতি পালিত হচ্ছে না এ মর্মে যে কোন অভিযোগ গ্রহণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং তদন্ত করা এবং প্রয়োজন হলে, এ নীতির পরিপন্থী কোন প্রচলন থেকে থাকলে তা মধ্যস্থতা কার্যক্রমের মাধ্যমে সংশোধন করতে হবে৷

(গ) মধ্যস্থতা কার্যক্রমে মাধ্যমে কার্যকর উপায়ে নিষ্পত্তি করা যায়না এমন অভিযোগ বিবেচনা করা এবং বৈষম্যমূলক প্রচলন কিভাবে সংশোধন করা যাবে এ সংক্রান্ত মতামত বা সিদ্ধান্ত দিতে হবে৷

৫৷ এ নীতির সাথে অসংগতিপূর্ণ কোন আইনগত বিধান বা প্রশাসনিক নির্দেশ থেকে থাকলে প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্র তা বাতিল করবে৷

৬৷ এ নীতির প্রয়োগের ফলে লিংঙ্গ, বয়স, প্রতিবন্ধিতা, পারিবারিক দায়িত্ব পালনের জণ্য কোন পন্থা গৃহীত হয়ে থাকলে বা বিশেষ সুরক্ষা প্রয়োজন হয় এমন সাধারণতঃ স্বীকৃত কোন সামাজিক বা সাংস্কৃতিক মর্যাদার পরোক্ষভাবে কোন হানি হতে পারবে না৷

৭৷ রাষ্ট্রের নিরাপত্তার প্রতি হানিকর কোন কাজে লিপ্ত বা যক্তিসংগতভাবে সন্দেহভাজন কোন ব্যক্তির প্রতি গৃহীত কোন ব্যবস্থা বৈষম্যমূল্যক বলে গণ্য হবেনা৷ তবে শর্ত হচ্ছে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জাতীয় প্রচলনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নিকট আপীল করার সুযোগ থাকতে হবে৷

৮৷ অন্য দেশের জাতীয়সম্পন্ন বিদেশী অভিবাসী শ্রমিকের বিষয়ে এবং তাদের পরিবারবর্গের বিষয়ে, মাইগ্রেশন ফর এমপ্লয়মেন্ট কনভেনশন (পুনরিক্ষীত), ১৯৪৯, আচরণের সমতা নীতি সম্পর্কিত এবং চাকরির প্রাপ্যতার উপর বিধিনিষেধ প্রত্যাহার সম্পর্কিত মাইগ্রেশন ফর এমপ্লয়মেন্ট সুপারিশ (পুনরিক্ষীত), ১৯৪৯ এর বিধানসমূহের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে৷

৯৷ অবৈষম্যমূলক নীতি বাস্তবে কার্যকর করার জন্য জাতীয় অবস্থার প্রেক্ষিতে কি কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ এবং মালিক ও শ্রমিকদের সংগঠনসমূহের প্রতিনিধিবর্গ এবং যোগ্য সংস্থার প্রতিনিধিদের মধ্যে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা থাকতে হবে৷

৪. সর্বক্ষেত্রে বৈষম্য নিরোধ করার জন্য পন্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধন

১০৷ চাকরি এবং পেশার ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষকে সার্বক্ষণিকভাবে এবং নিবিড়ভাবে অন্যান্য ক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে যাতে সকল ক্ষেত্রে গৃহীত পন্থাসমূহের মধ্যে সমন্বয় সাধিত হয়ে থাকে৷

Print Friendly, PDF & Email

About admin

WpCoderX