Don't Miss
Home / Int. Law & Charter / প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চিরস্থায়ী সার্বভৌমত্ব

প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চিরস্থায়ী সার্বভৌমত্ব

১৯৫৮ সালের ১২ ই ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত নং ১৩১৪ (১৩) কে স্মরণ রেখে পরিষদ প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চিরস্থায়ী সার্বভৌমত্ব কমিশন গঠন করে এজন্য যে, এই কমিশন আত্ম-নিয়ন্ত্রনাধিকারের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চিরস্থায়ী সার্বভৌমত্বের মর্যাদাগত অবস্থা সম্পূর্ণ জরিপ করার জন্য যেখানে প্রয়োজন সেখানে সুপারিশমালা প্রদান করবে৷ আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অধিকার ও দায়িত্বের প্রতি পূর্ণ খেয়াল সহ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে উত্‍সাহদানে নজর দিতে হবে,

“প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চিরস্থায়ী সার্বভৌমত্ব”

 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ১৯৬২ সালের ১৪ ই ডিসেম্বর সিদ্ধাস্ত ১৮০৩ (১৭) অনুযায়ী গৃহীত

সাধারণ পরিষদ ১৯৫২ সালের ১২ই জানুয়ারী রেজুলেশন/সিদ্ধান্ত নং ৫২৩ (৬) এবং ১৯৫২ সালের ২১শে ডিসেম্বর রেজুলেশন/সিদ্ধান্ত নং ৬২৬ (৭) কে স্মরণ রেখে,

১৯৫৮ সালের ১২ ই ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত নং ১৩১৪ (১৩) কে স্মরণ রেখে পরিষদ প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চিরস্থায়ী সার্বভৌমত্ব কমিশন গঠন করে এজন্য যে, এই কমিশন আত্ম-নিয়ন্ত্রনাধিকারের অন্যতম প্রধান উপাদান হিসেবে প্রাকৃতিক সম্পদের উপর চিরস্থায়ী সার্বভৌমত্বের মর্যাদাগত অবস্থা সম্পূর্ণ জরিপ করার জন্য যেখানে প্রয়োজন সেখানে সুপারিশমালা প্রদান করবে৷ আন্তর্জাতিক আইনের অধীন অধিকার ও দায়িত্বের প্রতি পূর্ণ খেয়াল সহ উন্নয়নশীল রাষ্ট্রসমূহের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে উত্‍সাহদানে নজর দিতে হবে,

১৯৬০ সালের ১৫ই ডিসেম্বর সিদ্ধান্ত নং ১৫১৫ (১৫) কে স্মরণ রেখে, সুপারিশ করে যে প্রতিটি রাষ্ট্রের তার প্রাকৃতিক সম্পদের উপর সার্বভৌমত্বের অধিকারকে সম্মান জানাতে হবে,

বিবেচনা করে যে এক্ষেত্রে যে কোন পদক্ষেপ অবশ্যই রাষ্ট্রসমূহের জাতীয় স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক স্বাধীনতার প্রতি সম্মান রেখে প্রাকৃতিক সম্পদের নিষ্পত্তির অবিছেদ্দ্য অধিকারের স্বীকৃতির উপর ভিত্তি করে হতে হবে,

বিবেচনা করে যে চতুর্থ অংশের কোন কিছুই পূর্বে ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে থাকা কোন উত্তরসুরী রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব সম্পন্ন করার পূর্বে দখলীকৃত সম্পত্তি অর্জনের ক্ষেত্রে উত্তরসুরী রাষ্ট্রের অধিকার ও দায়িত্বের প্রশ্নে তার  অবস্থানকে হুমকির মুখে ফেলবে না,

উল্লেখ্য যে রাষ্ট্র এবং সরকারের উত্তরাধিকারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইন কমিশন কর্তৃক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরীক্ষিত হবে,

এটা আশা করা হয় যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যকার অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তিসমূহ অবশ্যই সমতা এবং জনগণ ও রাষ্ট্রের আত্ম-নিয়ন্ত্রনের অধিকার নীতির ভিত্তিতে হবে,

কোন অর্থনৈতিক ও কারিগরী সাহায্য, ঋণ, বর্ধিত বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে গ্রহীতা রাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কোন শর্ত থাকতে পারবে না,

কারিগরী এবং বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময়ের ফলে যে সুবিধা হবে তা ঐ সমস্ত সম্পদের ব্যবহার ও উন্নয়নকে তরান্বিত করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জতিক প্রতিষ্ঠান সমূহ এই অনুযায়ী কাজ করবে,

প্রাকৃতিক সম্পদের উপর অবিভাজ্য সার্বভৌমত্ব সৃষ্টি এবং শক্তিশালীকরণ রাষ্ট্রসমূহের অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে সুসংহত করবে,

অর্থনৈতিক উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্ষেত্রে জাতিসংঘকে প্রাকৃতিক ধন-সম্পদের উপর রাষ্ট্রের  চিরস্থায়ী সার্বভৌমত্বকে অধিকতর বিবেচনায় আনতে হবে এই ইচ্ছা ব্যক্ত করে,

ঘোষণা করে যে-

১. প্রাকৃতিক ধন-সম্পদের উপর জনগণ এবং রাষ্ট্রের চিরস্থায়ী সার্বভৌমত্ব অবশ্যই জাতির উন্নয়নের স্বার্থে এবং রাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট জনগণের কল্যাণে প্রয়োগ হতে হবে৷

২. এই সকল সম্পদের আবিষ্কার, উন্নয়নের পাশাপাশি এসবের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মূলধন আমদানি অবশ্যই নিয়মকানুন ও শর্তের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ হবে যা ঐ জাতি এবং জনগণের প্রয়োজনীয়তা ও যথাযথ সীমাবদ্ধতা সাপেক্ষে স্বাধীনভাবে স্বীকৃত৷

৩. যেক্ষেত্রে ক্ষমতা দেয়া হয় সেক্ষেত্রে আমদানিকৃত মূলধন ও এর ফলে কৃত আয় আন্তর্জাতিক এবং প্রচলিত দেশীয় আইনের শর্তানুযায়ী পরিচালিত হবে৷ আর লভ্যাংশ অবশ্যই বিনিয়োগকারী রাষ্ট্র এবং বিনিয়োগকৃত রাষ্ট্রের স্বেচ্ছায় স্বীকৃত আনুপাতিক হারে বন্টিত হবে৷

৪. জাতীয়করণ, দখলীচ্যূতকরণ বা দখলীকরণ অবশ্যই জনগণের উপযোগিতা, নিরাপত্তা বা জাতীয় স্বার্থের প্রতি লক্ষ্য রেখে হতে হবে যা পুরোপুরি ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাহ্য করে তা সে আভ্যন্তরীণ হোক আর বৈদেশিকই হোক৷ সার্বভৌমত্বের অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রে বলবতযোগ্য আইন এবং আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী এ সকল ক্ষেত্রে মালিককে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে৷ যেক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের প্রশ্নে বিতর্ক দেখা দেয় সেক্ষেত্রে  স্বাধীন রাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষসমূহের সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী মধ্যস্থতা বা আন্তর্জাতিক মামলার সাহায্যে বিষয়টির নিষ্পত্তি হতে পারে৷

৫. প্রাকৃতিক ধন-সম্পদের উপর জনগণ এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের পরিচালনা রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সমতার ভিত্তিতে অগ্রসর  হবে৷

৬. উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা তা ব্যক্তিগত বা রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ, দ্রব্য বা সেবা ও কারিগরী সহযোগিতা বা বৈজ্ঞানিক তথ্য বিনিময় যে ধরনেরই হোক না কেন তা জাতীয় উন্নয়নে অগ্রগতি সাধন করবে এবং প্রাকৃতিক ধন-সম্পদের উপর সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে হতে হবে৷

৭. প্রাকৃতিক ধন-সম্পদের উপর জনগণের ও রাষ্ট্রসমূহের সার্বভৌমত্বের অধিকার লংঘন আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উন্নয়ন ও শাস্তি রক্ষাকে বাধাগ্রস্ত করে এবং তা জাতিসংঘ সনদের লক্ষ্য ও নীতির পরিপন্থী৷

৮. সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহ কর্তৃক বা সার্বভৌম রাষ্ট্রসমূহের মধ্যকার বৈদেশিক বিনিয়োগ চুক্তি সত্‍ উদ্দেশ্যে অনুসৃত হবে; জাতিসংঘ সনদ এবং বর্তমান সনদে বিবৃত নীতিসমূহ অনুসারে রাষ্ট্র্র্র্র সমূহ এবং আন্তর্জাতিক সংগঠন সমূহ প্রাকৃতিক ধন-সম্পদের উপর জনগণ এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বকে দৃঢ়ভাবে সম্মান জানাবে৷

Print Friendly, PDF & Email

About admin

WpCoderX